আলুর কেজি ৬ টাকা, তবুও মিলছে না ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | টুয়েন্টিফোর টিভি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০২২ জানুয়ারী ১৩, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর কেজি ছয় টাকা হলেও মিলছে না ক্রেতা। ফলে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা।

জানা গেছে, গত বছর অধিক দামে আগাম আলু বিক্রি হয়। ফলে এবারও আগাম আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন চাষিরা। কিন্তু এবার আলুর দাম না থাকায় লোকশান গুণছেন তারা। গত বছর যে আলু মাঠেই কেজি বিক্রি করেছিলেন ২৫-৩০ টাকায়। এবার সেই আলু একই সময় বিক্রি হচ্ছে মাত্র ছয় টাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলার ২৭ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই হাজার সাতশ ৭০ হেক্টর জমির আলু বাজারে উঠেছে। প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতক) আলুর উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৪ মেট্রিক টন। এতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। তবে প্রতি হেক্টরে দাম পাচ্ছেন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

কৃষি বিভাগ বলছে, গত বছরের কিছু আলু মজুদ থাকায় এবার দাম কম। পুরাতন আলু শেষে হলেই নতুন দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

আলুর মাঠে বর্তমান এখন গ্র্যানোলা জাতের সাদা ও এস্টারিক্স জাতের লাল আলু পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে লাল আলুর চাহিদা বেশি থাকায় দামও কিছুটা বেশি। আর সাদা আলুর বাজার রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায়। ফলে অন্যান্য জেলার চাহিদার উপর নির্ভর করে দাম পায় চাষিরা। সাদা আলু ছয় টাকা ও লাল আলু ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার ফকদনপুর এলাকার আলু চাষি এন্তাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি ছিল। সে কারণে কম ফলনেও ভালো লাভ হয়েছে। এবার লাভ তো দূরের কথা আসলও উঠছে না। কম দামে আলু বিক্রি করে বড় ধরনের লোকশানে পড়তে হচ্ছে। এরপরও নগদ টাকার ক্রেতা নেই।

সদর উপজেলার পটুয়া এলাকার আলু চাষি রকিবুল ইসলাম বলেন, সাড়ে পাঁচ একর জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে প্রায় পাাঁচ লাখ টাকা। ছয় টাকা দরে আলু বিক্রি করে দাম পাচ্ছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এ টাকায় আসলও উঠে না।

উপজেলার বিমানবন্দর এলাকার আলু চাষি শাহজাহান আলী বলেন, প্রথমবার ৪০ একর জমিতে আলু রোপণের কয়েকদিন পরে বৃষ্টি হয়। ফলে বীজ আলু মাটিতেই পচে যায়। পরে সেই জমিতে আবারও আলু রোপণ করা হয়। আলুর ফলন ভালো হয়েছে। ব্যবসায়িরা ৬ টাকা কেজি বলছে বিক্রি করিনি। এ দামে বিক্রি করলে অনেক টাকা লোকশান হবে।

ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আলু ব্যবসায়ী সোহাগ আলী বলেন, বিভিন্ন জেলার আলু একসঙ্গে বাজারে আসায় চাহিদা কিছুটা কম। রাজধানীর আড়ৎ থেকে কোনো অর্ডার পাচ্ছি না। সে কারণে দাম নেই।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আবু হোসেন, গত বছরের আলুর বাড়তি মজুদ শেষে হলে বাজার ঠিক হবে। চাষকৃত আলু এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। চাষিদের যে কোনো পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যয়ে রয়েছে।


■ সম্পাদক : নুরুল আমিন (খোকন)

■ সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
১০৫৪, রহিম ম্যানশন (৫ম তলা), সুবর্ণা আ/এ, গোলপাহাড় মোড়, ও. আর. নিজাম রোড়, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

মোবাইল : +8801894 78 50 10
ই-মেইল : info.24tvbd@gmail.com
মার্কেটিং : +88 01813 29 29 77

কপিরাইট © 2018-2022 24tv.com.bd । একটি টুয়েন্টিফোর ফ্যামেলির প্রতিষ্ঠান
Design & Developed by Smart Framework