সমুদ্র অর্থনীতির সুফল পেতে বরাদ্দ দেয়া হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | টুয়েন্টিফোর টিভি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০২০ Jun ২৫, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পদের সম্ভাবনাময় দেশ। আর এ ক্ষেত্রে সমুদ্রের সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। শুধুমাত্র দৃষ্টি ভঙ্গির কারণেই আমরা এ সম্পদকে কাজে লাগাতে পারছি না। ব্লু ইকোনোমিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত করতে সরকারের যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনোমি) নিয়ে বাজেট পরবর্তী এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সেভ আওয়ার সি’ এ আলোচনার আয়োজন করে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবিব। এতে আরো বক্তব্য দেন সেভ আওয়ার সির প্রধান বিজ্ঞানী ড. আনিসুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোজাদ্দেদী আলফেসানী, সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া, গ্রিক টেক ফাউন্ডেশনের সিইও মো. লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং কেপিসি পেপার কাপ ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান কাজী সাজেদুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক। এম এ মান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরকে আমরা বারবরই কম গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি স্থলের দিকে। আমাদের সম্ভাবনার সব থেকে বড় ক্ষেত্র সাগর। আর এ সাগরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সর্বপ্রথম দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল পেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আর এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যক্তির থেকে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। জিডিপির এ ধারা অব্যাহত রাখতে সমুদ্র অর্থনীতির বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করতে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক রয়েছেন বলেও জানান তিনি। মূল প্রবন্ধে কাজী আহসান হাবিব বলেন, গত ১০ বছরে সামগ্রিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়লেও সাগরে মাছের উৎপাদন বাড়েনি। ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে গুরুত্ব দেয়ার কারণে। সুতরাং সমুদ্রকেও যদি সেইভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়, তাহলে জিডিপিতেও অবদান রাখা সম্ভব। সমুদ্র সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমুদ্র অর্থনীতির ৫০ শতাংশ মাছ থেকে আহরণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে সমুদ্র জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে সমুদ্র এবং উপকুলীয় পর্যটনকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত মাছ শিকার, কোরাল ধ্বংস, প্লাস্টিক ও কলকারখানার বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। বঙ্গোপসাগরে শূন্য অক্সিজেন এলাকা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার জন্য সব দেশকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। মোজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, সমুদ্র থেকে প্রতি বছর আট বিলিয়ন টন মাছ আহরণ করা হয়। এছাড়া ১৫ হাজার টন রাসায়নিক উৎপাদনের সামগ্রী আহরণ করা সম্ভব। এমনকি সমুদ্রে শৈবল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সমুদ্র সীমা জয়ের পর থেকে নতুন করে কোনো কিছু করা হয়নি। এটাকে কাজে লাগানোর জন্য পরিকল্পনা করা দরকার। শুধুমাত্র সম্পদ কাজে লাগানো আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেটাকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও বিশ্লেষণ করতে হবে। সাজিদুর রহমান বলেন, প্লাস্টিক শুধুমাত্র আইন করে নিষিদ্ধ করলেই কাজ হবে না। তার বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। ওয়ান টাইম বা সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারে উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফোরকার আহমেদ বলেন, একমাত্র কক্সবাজারকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে পর্যটন দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা সম্ভব। তবে উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র ফাইল চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

■ সম্পাদক : নুরুল আমিন (খোকন)

■ সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
১০৫৪, রহিম ম্যানশন (৫ম তলা), সুবর্ণা আ/এ, গোলপাহাড় মোড়, ও. আর. নিজাম রোড়, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

মোবাইল : +8801894 78 50 10
ই-মেইল : info.24tvbd@gmail.com
মার্কেটিং : +88 01813 29 29 77

কপিরাইট © 2018-2022 24tv.com.bd । একটি টুয়েন্টিফোর ফ্যামেলির প্রতিষ্ঠান
Design & Developed by Smart Framework