ঢাকা , রবিবার, ২০২৬ Jun ২১, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক

মহানবীকে কটূক্তির জেরে ভারত-আরব টানাপোড়েন


প্রকাশিত : বুধবার, ২০২২ Jun ০৮, ০৭:২১ অপরাহ্ন

 

মহানবী হযরত মুহম্মদকে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রকট হচ্ছে। 

এরই মধ্যে নিন্দা জানিয়েছে কমপক্ষে ১৫টি মুসলিম দেশ। আর এসব দেশের সাথে বড় ধরনের বাণিজ্য সম্পর্ক থাকায় বিপাকে পড়েছে ভারত। 

কাতার ও কুয়েতের অনেক দোকানের তাক থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মহানবী নিয়ে দুই ভারতীয় রাজনীতিকের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ। 

শুধু হ্যাশট্যাগে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েই ক্ষান্ত নয় তারা, ওই মন্তব্যের জন্য ভারত সরকারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছে কাতার। 

ফলে কূটনৈতিকভাবে চরম বিপাকে পড়েছে ভারত। উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল-জিসিসি সদস্য কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, আমিরাত।

এই জোটের সাথে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে ভারতের। গত অর্থ বছরেও জিসিসির সাথে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

এসব দেশে লাখ লাখ ভারতীয় কাজ করে, যারা কোটি কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠায় দেশে। ভারতের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি আমদানিও হয় এসব দেশ থেকেই।

নবীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দেশগুলোর তালিকায় আরব আমিরাতের নাম থাকা নয়া দিল্লির জন্য ‘খুবই দুশ্চিন্তার’, বলছেন বিশ্লেষকরা।

কারণ গত কয়েক বছরে আমিরাতের সাথে ভারতের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দেশটি বহুজাতিক বিভিন্ন ফোরামে ভারতকে সমর্থনও করেছে। চলমান বিতর্কে, ভারতের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সাফল্যে ছায়া ফেলতে পারে।

কয়েক বছরে দিল্লির সাথেও তেহরানের সম্পর্কে আগের মতো উষ্ণতা নেই। এর মধ্যে এই বিতর্ক ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সমালোচকরা বলছেন, বিজেপি দাবি করলেও কটূক্তিকারী নূপুর শর্মা এবং নভিন জিন্দাল মোটেও ‘বিচ্ছিন্ন কেউ’ নন। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র ছিলেন নূপুর। 

যার কাজ ছিলো বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। তাই, পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হলে আরব বিশ্ব ও ইরানের সাথে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

আরও খবর

Video