সমালোচনাকারীদের পদ্মা সেতু ঘুরে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | টুয়েন্টিফোর টিভি
প্রকাশিত : বুধবার, ২০২২ Jun ২২, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে আদালত দুর্নীতির প্রমাণ না পেলেও বিএনপি ও কিছু সুশীল সমালোচনায় মেতে ওঠেন। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আজ পদ্মা সেতু বাস্তব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে বুধবার (২২ জুন) দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

এ সময় সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাহস ও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রতীক পদ্মা সেতু- এ কথা উল্লেখ করে সমালোচনাকারীদের পদ্মা সেতু ঘুরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোতে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বলেন, ‘আজ আমার হৃদয় খানিকটা ভারাক্রান্ত। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জ। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জও বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ এ বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

এছাড়া বন্যায় প্লাবিত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, জামালপুর, শেরপুরসহ ১১টি জেলা। সিলেটে যে বন্যা হয়েছে তা অকল্পনীয়। এটাকে প্রলয়ঙ্করী বললেও ঠিক বুঝানো যায় না বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১১টা থেকে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে শুরু করেন তিনি।

আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশ করে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন নামফলক উন্মোচন করে টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হবেন তিনি।

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর সমীক্ষা বন্ধ করেছিল বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

এরপর অন্য প্রান্তেও নামফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

এর আগে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু তৈরি করা-  এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জের কাজ ছিল আমাদের। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া যে আমরা শেষপর্যায়ে চলে আসতে পেরেছি।’

বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর একদিন পর ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এটি দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাংশের সংযোগ ঘটবে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকছে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত দেশটির সবচেয়ে বড় এ সেতু।

পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে স্বপ্নের এ সেতু। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।


■ সম্পাদক : নুরুল আমিন (খোকন)

■ সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
১০৫৪, রহিম ম্যানশন (৫ম তলা), সুবর্ণা আ/এ, গোলপাহাড় মোড়, ও. আর. নিজাম রোড়, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

মোবাইল : +8801894 78 50 10
ই-মেইল : info.24tvbd@gmail.com
মার্কেটিং : +88 01813 29 29 77

কপিরাইট © 2018-2022 24tv.com.bd । একটি টুয়েন্টিফোর ফ্যামেলির প্রতিষ্ঠান
Design & Developed by Smart Framework